শেষ বলের ৬ এ স্বপ্ন ভঙ্গ বাংলাদেশের

নিদাহাস ট্রফি ২০১৮ হাতে এসেও যেন ফসকে গেল বাংলাদেশের। ফাইনালে এমন হার মনে করিয়ে দেয় ২০১২ এর ফইনালের কথা। দ্বিপক্ষীয় সিরিজ যেতার গল্প থাকলেও দুই দলের বেশি খেলা এমন কোন সিরিজ জিততে পারেনি বাংলাদেশ। যদিও ওয়ানডে ও টি ২০ মিলিয়ে ৫ টি ফাইনাল খেলা হয়েছে বাংলাদেশের।

প্রতিটিতেই শেষ মুহুর্তের বিপর্যয়ের কাছে হেরেছে বাংলাদেশ। তবে কি দোশটা আসলে ভাগ্যের, হয়তো তাই নাহলে গতকালকের মত এমন মেচ কেউ হারে?

টসে জিতে বাংলাদেশকে বেট করতে পাঠায় ভারত। ভারতের বিপক্ষে প্রথমে বেট করে জিততে হলে রানের সংখ্যাটা অনেক বর করতে হবে সেই উদ্দেশ্যে বেট করতে নামে বাংলাদেশ, কিন্তু সাব্বির ছাড়া হতাশ করলেন প্রথম সারির প্রায় সব ব্যাটসম্যান।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে রান তারানোয় তামিমের সঙ্গে জুটি করে ইনিংসের গোড়াপত্তনে ভাল অবদান রাখায় লিটন দাশকেই নামানো হচ্ছে শুরুতে। কিন্তু ঐ ইনিংসের পর সেটার পুনরাবৃত্তি দেখা যায়নি আর। ১১ রান করেই ওয়াশিংটন সুন্দরের বলে কেচ আউট হন লিটন দাশ।

১৩ বলে ১৫ করে দুর্ভাগ্যবসত যুজবেন্দ্র চাহালের বলে ছয় মারতে গিয়ে লং বাউন্ডারিতে কেচ আউট হন তামিম ইকবাল। প্রায় ছক্কা হতে যাওয়া বলটাকে দারুনভাবে কেচ ধরে দারুণভাবে ভারসাম্য রেখেছেন শার্দুল ঠাকুর।

২ বলে ১ করা সোম্য সরকার ও একি ওভারে সুইপ খেলতে গিয়ে স্কয়ার লেগে কেচ দিয়ে আউট হন। ফলাফল তখন ৫ ওভারে ৩ উইকেট। বর সংগ্রহের আশায় প্রায় গুরেবালি।

পুরো টুর্নামেন্টে ভালা খেলা মুশিকুর রহিম যুজবেন্দ্র চাহলের বল বুঝতে না পেরে ডাউন দ্যা উইকেটে এসে স্লাইস করতে গিয়েছিলেন কিন্তু বল বেটের ডগায় লেগে কেচে পরিণত হয় এবং দৌরে এসে সুন্দর ডাইভ দিয়ে বলটা ধরেন বিজয় সংকর। ফলে ১২ বলে ৯ এবং সাব্বির এর সঙ্গে তার ৩৫ রানের জুটি ভঙ্গ করেই ফিরতে হয় মুশফিকুর রহিমকে।

মুশফিকের বিদায়ে আসা মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের সঙ্গেও ৩৬ রানের ছোট্র জুটি হয়েছিল সাব্বিরের। মাহমুদুল্লাহর রান যখন ১৬ বলে ২১ তখন স্ট্রাইকে মাহমুদুল্লাহ বল তার পেডে লাগলে মাহমুদুল্লাহ দারিয়ে থাকলেও সাব্বির রান নেয়ার জন্য বোলিং এন্ড থেকে দৌরে চলে এলেন মাহমুদুল্লার প্রান্তে। ৪২ রান করা সাব্বিরকে আউট না করতেই যেন পরে অত্বহুতি দিলেন মাহমুদুল্লাহ।

৬ এ স্বপ্ন ভঙ্গ বাংলাদেশের

মাহমুদুল্লাহর পরে আসা সাকিব ও রান আউট হন সাব্বিরের ভুলেই। শুরুটা ভালই করেছিলেন সাকিব কিন্তু রান আউটের কবলে পরে তাকে ফিরতে হয় ৭ বলে ৭ করেই।

দলের দুইজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যান আউট হয়েছেন সাব্বিরের ভুলে কিন্তু সেই ভুলগুলো কাউকে মনে করতে দেয়নি টি২০র জন্য বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান ক্ষেত সাব্বির এর ঝরো ইনিংস। ৫০ বলে ৭ টি চার ও ৪ টি ছক্কায় তার বেক্তিগত সংগ্রহের খাতায় ৭৭ রান যোগ করে তিনি আউট হন।

দল ততক্ষনে বর সংগ্রহে যেতে না পারলেও সম্মানজনক স্কোর পেয়েছে। শেষ ওভারে মেহেদি হাসান মিরাজের করা ১৮ রান ভারতীয়দের কলিজায় দাগ কেটে গেছে হয়তো। সবশেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দারায় ৮ উইকেটে ১৬৬ রান। যুজেবেন্দ্র চাহাল ৩ উইকেট ও জোরা শিকার করেন জয়দেব উনাদকাটের।

১৬৭ রানের টার্গেট নিয়ে খেলতে নামা ভারত রোহিত শর্মার ৪২ বলে ৫৬ করার পরও উইকেট পতনের ফলে মাঝপথে এসে চাপে পরে যায়। বাংলাদেশের বিপক্ষে হেরে শ্রীলংকা যেন ভারতের পক্ষ নিচ্ছিল। সুরেশ রায়নার বেটে লেগে বল মুশফিকের হাতে গেলেও আম্পায়ার ওয়াইড এর সংকেত দেন। পরে বাংলাদেশ রিভিউ নিলে আউট পায়। লোকেশ রাহুল ও মনিশ পান্ডেরা শুধু সঙ্গ দিয়েছেন বাংলাদেশের উপর মুল তান্ডব চালিয়েছেন দিনেশ কার্তিক। মাত্র ৮ টি বল খেলেছেন ৩ টি ছক্কা ও ২ টি চার মেরে করেছেন ২৯ রান। তার পরও শেষ ৩ ওভারে ৩৫ রান দরকার ছিল ভারতের। ১৮তম ওভারটি করতে আসেন বাংলাদেশের কাটার মাস্টার ক্ষেত মুস্তাফিজুর রহমান। পর পর চারটি বলে কোন রান দেন নি, ৫ম বলেও রান হতনা যদি লেগ বাই থেকে ১ রান না নিত। ৬ষ্ট বলে অফ স্ট্যাম্পের বাইরে ফুল লেংথে ডেলিভারি মুস্তাফিজের, লং অন দিয়ে ৬ মারার চেষ্টা করেছিলেন মনীষ পান্ডে কিন্তু টাইমিং এ গরবর হওয়ায় বল ক্যাচে পরিণত হয় সাব্বিরের। এরকম চাপের সময়ও মুস্তাফিজের মেডেন ও উইকেট পাওয়া সত্যি প্রশংশার দাবীদার। তার ওভার শেষে ভারতের দরকার ছিল ১২ বলে ৩৪ রান।

কিন্তু পরের ওভার করতে আসা রুবেলের বাজে বোলিং এ এক ওভারেই দিনেশ কার্তিক করে ২২ রান।

মেচ জেতার জন্য শেষ ওভারে ভারতের দরকার ১২ রান। বোলিং এ এলেন সোম্য সরকার প্রথম ৫ বলে দিয়েছেন মাত্র ৭ রান, শেষ বলে ভারতের দরকার ছিল ৫ রান চার মারলেও মেচ টাই হত কিন্তু দিনেশ কার্তিক ৬ মেরেই জিতিয়ে দিলেন ভারতকে।

সত্যি এ হার মেনে নেয়া কস্টের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.