বেসিস নির্বাচন ২০১৮ ষড়যন্ত্র থেকে পুনরুদ্ধারের “সৈয়দ আলমাস কবীর” এর সক্রিয় ভুমিকা

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) এর কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন ৩১ মার্চ। ষড়যন্ত্রের কবলে পড়ে নির্বাচন বন্ধের ঘোষণা হলেও শেষ মেশ হচ্ছে বেসিস নির্বাচন ২০১৮। নির্বাচন ষড়যন্ত্র থেকে পুনরুদ্ধারের জন্য বসিসের বর্তমান সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর সক্রিয় ভুমিকা পালন করেন।

সৈয়দ আলমাস কবীর এক বিবৃতি তে বলেন, নির্বাচন বানচাল করার চক্রান্ত করে বেসিস এবং আমাদের বর্তমান বোর্ডকে বিব্রত করার উদ্দেশ্যে যে অনাকাঙ্ক্ষিত কাজ করা হয়েছিল, তা’ মোকাবেলায় আজ কিছু জরুরী পদক্ষেপ নিয়েছি। বোর্ড মেম্বার, নির্বাচন কমিশনার, প্রাক্তণ সভাপতিগণ এবং কয়েকজন নির্বাচন-প্রার্থীকে নিয়ে আইনজীবির সাথে মিটিং করে ডিটিও-র ইস্যুকৃত চিঠির বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেই। অতঃপর রাতে বাণিজ্য-মন্ত্রী মহাদয়ের সাথে দেখা করি আমি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কামাল ভাই এবং প্রাক্তণ সভাপতি মাহবুব জামান ভাই। তিনি তখন হোটেল সোনারগাঁও-এ একটি অনুষ্ঠানে ছিলেন। সংক্ষিপ্ত আলাপে আমরা বুঝতে পারি যে, তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার ভাই সুপারিশ করলে ডিটিও-র এই চিঠি স্থগিত করা যাবে। আমরা অবিলম্বে জব্বার ভাইয়ের সাথে তাঁর সরকারী বাসভবনে দেখা করি। উনি সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের উপস্থিতিতে বাণিজ্য-মন্ত্রীকে ফোন করে অনুরোধ করেন ডিটিও-র এই চিঠি তুলে নেওয়ার জন্য এবং যেভাবেই হোক ৩১শে মার্চের নির্বাচন প্রক্রিয়া যাতে সুষ্ঠভাবে চলতে পারে তা’ নিশ্চিত করার জন্য। বাণিজ্য-মন্ত্রী তাঁকে আশ্বাস দেন এবং ডিটিও-কে তখনই এ বিষয়ে নির্দেশনা দেন। আশা করছি, কালকের মধ্যেই এ সমস্যার সমাধান আমরা করে ফেলতে পারবো। আগামী ৩১শে মার্চ শনিবার বেসিস নির্বাচন হবেই!

আমি এ প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি, যারা আমাদের বিরুদ্ধে এই অযাচিত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, তা’দেরকে চিহ্নিত করা হবে এবং তা’দের বিরুদ্ধে সঙ্ঘবিধি অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে যে-ই হোক না কেন।

বেসিস-এর সদস্যগণ অনেক সচেতন। তাঁরা এই ধরণের ষড়যন্ত্রকে সহজেই বুঝতে পারেন। অন্যের ঘাড়ে বন্দুক রেখে যারা শিকার করতে চায়, তা’রা শুধু দুষ্টজনই নয়, মূর্খও বটে!

সৈয়দ আলমাস কবীর

নির্বাচন হবে ঘোষণার পর সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন, বেসিস সদস্যদের তিলে তিলে গড়ে ওঠা একে অপরের মাঝে ভালোবাসার বন্ধনের কাছে, কুচক্রীমহলের চক্রান্ত জয়ী হতে পারেনি। জয়ী হয়েছে, প্রাণের সংগঠনের অস্তিত্ব রক্ষার্থে বেসিস সদস্যদের একযোগে জেগে ওঠা। সিনিয়র নেতা মাহবুব জামান, নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান এস এম কামাল ও শোয়েব আহমেদ মাসুদকে সাথে নিয়ে মন্ত্রণালয় থেকে গতকালের নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করিয়ে, ৩১ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুমতি নিয়ে এসেছি আমি সৈয়দ আলমাস কবির।পুরো একটি দিনের নির্বাচন নিয়ে সব সংশয়কে জয় করে, আসুন আমরা সবাই যোগ দিই নির্বাচন উৎসবে।

এ ব্যাপারে বেসিসকে প্রত্যক্ষভাবে সার্বিক সহযোগিতার জন্য মাননীয় বাণিজ্যমন্ত্রী জনাব তোফায়েল আহমেদ এবং মাননীয় তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী জনাব মোস্তাফা জব্বাবরকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এমন সংকটময় সময়ে, বেসিসের যারা আমাকে নি:শর্ত সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি রইলো অসীম কৃতজ্ঞতা।

দুঃখ পেয়েছি, আমারই বোর্ডের নির্বাচনে অংশ না নেয়া কিছু সহকর্মী যারা নির্বাচন স্থগিতের চিঠি প্রত্যাহারে, সহযোগিতার পরিবর্তে প্রতি পদে বাধা দিয়েছেন, ইন্ডাস্ট্রির স্বার্থ ভুলে এবং বেসিস সদস্যদের মাঝে অনৈক্যের এমন নীল চক্রান্তের যারা পরিকল্পনা করেছিলেন, এবং যারা এটিকে ভোটের মাঠে নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় নোংরা খেলায় মেতে উঠেছিলেন, বেসিসের এমন উৎসবময় মুহুর্তে আশা করছি বেসিসের স্বার্থে তাদের উপলব্ধিতে পরিবর্তন আসুক। আগামীতে বেসিসের উন্নয়নে তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের আশা করছি।

 

আপনাদের সর্মথন পেলে বেসিস সদস্যদের স্বার্থ-রক্ষার্থে যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ভবিষ্যতে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে জয়ী হব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here