আবুল কাশেম – আমি আমার পরিচয় উল্ল্যেখ করি না, কেন?

৯৯% ক্ষেত্রে আমি আবুল কাশেম আসলে এভোয়েড করি আমার পরিচয় দিতে। কারন স্পেসিফেকিলি কিছুই করি না। শুরু করেছি যা দিয়ে তা করছি না। আবার যা করছি সেটা সেই অর্থে সিরিয়াস না।

নানা কারনেই ভালো সাবজেক্টে পড়া হয় নাই। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে একেবারে স্পেসিফিক্যালি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশুনা শুরু করলাম। ৩ বছরের পড়াশুনা। ছয় মাসের কোর্স শেষেই পার্ট টাইম চাকরী। চাকরীটা ছিলো জুনিয়রদের বুঝতে অসুবিধা হলে বুঝিয়ে দেয়া। আমরা সিসটেমেটিক্যালি পড়েছি। শুরু লজিক বিল্ডিং আর এলগরিদম ডিজাইন দিয়ে। ফোকাসটা যদি লজিক, এলগরিদম আর প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের এলিমেন্ট গুলো নিয়ে তাই সহজ টুলস জি ডব্লিও বেসিক নিয়েছিলো।

আমাদের পরের ব্যাচে আবার সেটা হলো সি। আমাদের ক্লাস করতে হচ্ছে ভিজুয়াল বেসিকে। প্রথম ছয় মাসে আবার আমাদের ডাটেবেজ ডিজাইন নিয়েই বেশি ফোকাস দেয়া হয়ছে। এই ছয় মাসেই আমরা এপ্লিকেশন তৈরি করা শিখেছিলাম।

সি আমাদের ছিলো না। যাদের হেল্প করছি তাদের সি এর সমস্যা সমাধান করতে হচ্ছিলো। আলাদা করে একদিকে সি আরেক দিকে ভিজুয়াল বেসিক পড়তে হচ্ছিলো। বলা বাহুল্য এই সময় আমি আবার উনিভার্সিটিতেও পড়ি। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং আমার পাশাপাশি পড়াশুনা। তিনটা বিষয় এক সাথে চললো উনিভার্সিটি, নিজের কোর্স আর চাকরী। লাইফ এতো চ্যালেঞ্জিং হলো যে বলার মতো না। যাই হোক এভাবে চললো। এর পর সি++, ভিজিয়ুয়াল সি প্লাস++, জাভা, মাইক্রোসফট এসকিএল সার্ভার, ওরাকেল, ডিটুকে এই সব নিয়ে চললো আরো একবছর।

এরি মধ্যে আমি গ্রামীন স্টার এডুকেশনে ফুল ফ্যাক্টাল্টি হিসাবে জয়েন করি। থার্ড ইয়ার প্রায় সব থিওরি। একদিকে থার্ড ইয়ার অন্য দিকে ফুল টাইম চাকরি প্লাস মাস্টার্স। রাত আর দিন কি আমি জানতাম না। মাসের তারিখ আর দিন আমার মনে হতো না। বিকেল বেলায় খেলা এতো মিস করতাম। কতদিন ভাবছি হায় বিকেলটাই কখনো দেখা হয় না।

মাস্টার্স শেষ যখন করলাম। এরপর কিছুটা স্বস্তি। ফুল টাইম ফ্যাকাল্টি মেম্বার হিসাবে আমাকে প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ, ডাটাবেসই পড়াতেই হতো । এক পর্যায়ে এসকিএল সার্ভার আর ভিজিয়ুয়াল বেসিক আর ক্রিস্টাল রিপোর্ট নিয়ে প্রায় ২০০-৩০০ জনকে পড়ানো হয়ে গেছে। প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ প্রোগ্রামিং মেথডলোজি আর কনসেপ্টের উপর ভিত্তি করেই হয় সো সব বিষয়ই খুব স্বচ্ছ ধারনা থাকতে হয়। শিক্ষক ছাড়া নিজেরাই এই সব অনেক বিষয় পড়তে হয়ছে, শিখতে হইছে। মাস্টার্স শেষের পর আবার সবাই এমবিএ তে ভর্তি হলো। আমিও হলাম আবার সেই চাপ। শেষ না করেই স্টপ করে দিলাম। পুরো মনোযোগ প্রোগ্রামিংয়ে।

এরি মধ্যে টুকি টাকি ফ্রিল্যান্স সফটওয়ার তৈরি করার কাজ শুরু করলাম লোকাল মার্কেটের জন্য। এই সময় একের পর এক কাজ আসতে শুরু করলো।

একাউন্টিং সিস্টেম, ইনভেন্টরি মেনেজম্যান্ট নিজেই বানিয়ছি।এরপর শুরু হলো শিপিং ইন্ড্রাস্ট্রির জন্য কাজ।

আমি যখন কোন এপ্লিকেশন বানাতাম আমার লক্ষ্য থাকতো এই সিস্টেম কতটা ইন্টিলজিলেন্ট, ইফিশিয়েন্ট, ইউজার ফ্রেন্ডলি, লেস ইণ্টারএকশন প্রয়োজন সেটা। আমি যতগুলো এপ্লিকেশন বানিয়েছি সেই গুলো তৈরির জন্য অনেক প্রোগ্রামার ট্রাই করেছিলো ফেল করছে।

আমি প্রত্যেকটা এপ্লিকেশন নিয়ে বলতে পারি। প্রত্যেকটা এপ্লিকেশন তৈরিতে আমার ইউনিক স্টোরি আছে। এমন হয়েছে টানা দুই মাস সারারাত আমি ক্লায়েন্টের প্রজেক্ট অফিসে থেকে কাজ করেছি। আমি মুন্নার (জাহার মায়ের কাছে) সরি যে ঐ সময় আমাদের বিয়ে হওয়ার পর তাকে সময় না দিয়েই চলে গিয়েছিলাম। সে অনেকবার নিষেধ করেছিলো। আমার উপায় ছিলো না। সে বুঝেছে বাট কস্টও পেয়েছে আর মনেও রেখেছে। এনি ওয়ে।

স্পেশালি মাসকের একটা এপ্লিকেশনের কথা আমি বলবো পরে। তবে যেটা হয়েছে আমি একটা কাজ করছি আর তার সিইও বা ডিরেক্টর আমাকে আরেকটা অফিসের কাজ নিজ থেকেই নিয়ে দিচ্ছিলো। একজন অপারেশন ম্যানেজার তার গাড়ী করে প্রতিদিন আমার জন্য মার্কেটিং করার জন্য বের হত। কারন আমি যা করেছি তাদের প্রত্যকের এক্সপেটেশনের চেয়ে বেশি করেছি।

প্রোগ্রামিং শুধু আমি করেনি আমি অনেককে প্রোগ্রামারও বানিয়েছি। সাম হাওয় আমি চেয়েছিলাম ওয়েবের জন্য এপ্লিকেশন তৈরি করতে।আমার স্কিল পুরাটাই ডেস্কটপ এপ্লিকেশন তৈরির। তত দিনে আমি সি সার্পে কনভার্ট করে নিয়েছি আমার স্কিল। ওয়েবে এসে দেখলাম আসলে আমি যেই ধরনের এপ্লিকেশন তৈরি করতে পারি সেটা দিয়ে কিছু করার আইডিয়া আমি খুজে পাচ্ছিলাম না। আবার টেক কাজ সব পিএচপি আর জাভাস্ক্রিপ্ট ভিত্তিক। সেই ধরনের কাজ শেখার ইচ্ছা আমার আর করছিলো না। এতো রকম পড়াশুনা আর এতো এতো চাপ নিতে নিতে আমি আসলে নতুন কিছু শিখতে ভয় পাচ্ছিলাম। আমি জানতাম আসলে আমার কমপক্ষ্যে ১+ বছর ওয়েব ভিত্তিক ল্যাঙ্গুয়েজ গুলো পড়তে হবে।

একদিকে ওয়েবে কিছু করার ইচ্ছা। অন্যদিকে লোকাল মার্কেট থেকে গুটিয়ে নেয়া আর নিজের সংসার শুরু করা ছোট ভাই বোনদের দ্বায়িত্ব নেয়া লাইফ এগেইন ওয়াজ সো টাফ। কোন দিকে যাবো বুঝার উপায় ছিলো না। এরি মধ্যে ভাবলাম কিছু একটা শুরু করি আয় হতে থাকলে আস্তে আস্তে ওয়েব ভিত্তিক ল্যাঙ্গুয়েজ গুলো শিখে নিবো। মার্কেটিং করবো কিভাবে এটা জানতেই মার্কেতিং শেখা। আমাদের সময় মার্কেটপ্লেস, ইনভাটো বা এই রকম কিছু ছিলো না তাই মনে হতো মার্কেটিং শিখতে হবে। শেখা শুরু। শুরুর দিকে এসইও খুব ভালো লাগতো। র‍্যাঙ্কিং করাতে পারা বেশ ইণ্টারেস্টিং। তাই প্রোগ্রামিং বাদ দিয়ে শেখা শুরু করলাম। ভাবলাম টানা দুই/তিন বছর মার্কেটিং নিয়ে পড়াশুনা শেষ করে আবার প্রোগ্রামিংয়ে আসব।

এই সময় এসইও নিয়ে কিছু কাজও পেয়ে গেলাম। অনেক কাজ। বেশ ভালো টাকা আসা শুরু। টিম, অফিস, বাসা সব নিয়ে নতুন যুদ্ধ। আমি থেমে থাকিনি। প্রথমে ড্রুপাল নিয়ে পড়লাম। এক বছর অনিয়মিত ভাবেই ড্রুপাল শিখলাম। জুমলাও ট্রাই করলাম। ডিজাইন পারি না তাই টেমপ্লেট বানাতে পারছিলাম না। কোন ভাবেই আসলে একটা বিষয়ে মনযোগ দিতে পারছিলাম না। এই সময় ঘটেছে টাফ একটা ঘটনা।

৪ বছর বিজনেসের জন্য কিছুই করিনি। শুরুতে যা করেছি তাই দিয়ে চলছে । এই চার বছরের বেশির ভাগ সময় আমি পড়াশুনা করে কাটিয়েছি। কত কোর্স কত কি করেছি তার ঠিক নাই।

জাবাস্ক্রিপ্ট – মিন স্ট্যাক, রুবি অন রেইলস, ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে নানা ধরনের কোর্স,ওয়ার্ড প্রেস, বিজনেস, ম্যানেজমেন্ট, এইচআর, লারাভেল, ডিজাইন, ইউএক্স, কনটেণ্ট – কপি প্লাস সো ম্যানি থিং, প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট, প্রোডাক্ট লঞ্চি ব্লা ব্লা

সব বিষয়েই পড়ি করি বাট সিরিয়াস না। কিছুই হয় না। কিছু করি নি। পারিনি।

তাই অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমি আমার পরিচয় উল্ল্যেখ করি না। আমি সব সময় যে কোন বিষয়ে ডেপথ নলেজ তৈরি চেস্টা করি।এটা বিশাল সমস্যা।

আমি কোথাও লিখি নাই। নিজের ব্রান্ডিং করি নাই। আমার কাছে প্রধান ইস্যু মানষিক রিকোভারেই আর হেলথদের রিকোভারি। বাস্তবতা হলো আমি অফিসে কিছুই করি না। অধিকাংশ সময়ই কোন না কোন বিষয় পড়ি।

কেন বললাম এই সব

জানে না চেনে না বুঝে না অহেতুক তর্ক করে। আমাকে জ্ঞান দেয়। লজিক শেখায়। উনিভার্সিটিতে থাকা কালেই আমি ক্রিটিক্যাল রিজনিংয়ে প্র্যাকটিস করে আসছি।

আমারে লজিক দেয় ফ্রিল্যান্সার নাই। ফ্রিল্যান্স প্রোগ্রামার আছে। যেই বললাম তাহলে তো চাকরী জীবী নাই একাউন্টেন্ট আছে। তখন সুর চেঞ্জ।

কারো কারো যা পড়াশুনার লেভেল তা আমার অনেক স্টুডেণ্টের সমান হয়তো।

আর যে রেসপেক্ট করেন বলেন না সেটা ভুল। রেসপেক্ট করলে বিনয় থাকে। বড়দের ভুল হলে বিনয়ের সাথে ধরিয়ে দেয়। তাকে চার্জ করে না। খাটো করে মজা নেয়ার চেস্টা করে না।

অনেকেই বিরক্ত। তাই ঠিক করছি তাদের স্পেচে না যাই। তারা তাদের মতো থাকুক। নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছি। অনেককের সাথের ভার্চুয়ালযে সম্পর্ক তা কেটে দিচ্ছে যাতে তারা আমার লেখা বা একটিভিটি দেখে বিরক্ত না হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here