বেসিস নির্বাচন নিয়ে কি হয়েছিল ২৭শে ও ২৮শে মার্চ – সৈয়দ আলমাস কবীর

বেসিস নির্বাচন ২০১৮ কে সামনে রেখে সব প্যানেলের সকল সদস্যরা যখন প্রচার প্রচারনায় মুখর, ঠিক সেই সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে নটিস আসে নির্বাচন বন্ধ করার। বেসিস নির্বাচন বানচাল কে ষড়যন্ত্র দাবি করে সৈয়দ আলমাস কবীরের নেতৃতে প্রতিবাদ কররে পুনরায় নির্বাচন করার আদেশ নাওয়া হয়।

ঐ দুদিন কি কি করা হয়েছিল ও তার প্রচারণা নিয়ে সৈয়দ আলমাস কবীরের কিছু কথাঃ

তিনি বলেন একথা সবাই জানেন, নির্বাচন প্রচারণার শেষ দুইদিন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ২৭শে ও ২৮শে মার্চ ছিল এবারের নির্বাচনের শেষ দুইদিন। ষড়যন্ত্রকারীরা নির্বাচন বানচালের প্রচেষ্টায় এবং আমাকে এই দুইদিন ব্যস্ত রাখার উদ্দেশ্যেই ডিটিও-র ২২শে মার্চের চিঠি ২৭শে মার্চে বেসিস-এ আনে। আমার বিশ্বাস, তাদের উদ্দেশ্য ছিল এতে হয় নির্বাচন বন্ধ করে আমাকে বিব্রত করা হবে, আর না হয় অন্ততঃ নির্বাচনের শেষ দুইদিনের প্রচারণা থেকে আমাকে বিরত রাখা যাবে। যদিও তা’দের পরের উদ্দেশ্যটা সফল হয়েছে এবং আমাকে ব্যস্ত রেখে নির্বাচনের মাঠ থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে, তা’দের প্রথম উদ্দেশ্যটাকে আমি সফল হতে দেইনি। বর্তমান সভাপতি হিসেবে বেসিস-এর সম্মান বজায় রাখার দায়িত্ব আমি পালন করেছি, এবং কুচক্রীদের মুখে ছাই দিয়ে ২৪ ঘন্টার মধ্যে সমস্যার সমাধান করেছি। হ্যাঁ, আমি নিজে নির্বাচনী প্রচারণা করতে পারিনি ঠিকই, কিন্তু আমি নিশ্চিত করেছি যে নির্বাচনী প্রক্রিয়া যাতে চলমান থাকে। আমি হয়তো ২৮ তারিখে সচিবালয়ে সারাদিন না খেয়ে বসে না থেকে গতানুগতিক আমলাতান্ত্রিক বিলম্বতার কথা বলে চলে আসতে পারতাম এবং অন্যন্যদের সাথে নির্বাচনী প্রচারণায় যোগ দিতে পারতাম।

২৯শে মার্চে যখন আর নির্বাচন বিধি অনুযায়ী প্রচারণার সুযোগ থাকতো না, তখন সচিবালয়ে যেয়ে বাকি কাজ সেরে নিতে পারতাম। কিন্তু আমি তা করিনি, কারণ এতে অন্যান্য প্রার্থীরা তিন দিন ধরে একটা অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতেন এবং নির্বাচনী উদ্দীপনায় একটা ভাটা আসতো।

সৈয়দ আলমাস কবীর” এর সক্রিয় ভুমিকা

এরপরও আমাকে শুনতে হয়েছে যে আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি মাত্র। বাড়তি আর কী-বা করেছি! তা’ছাড়া এটা তো কেবল দাপ্তরিক কাজই ছিল। হ্যাঁ, আমি নিজে ২৭ তারিখে মধ্যরাত পর্যন্ত দৌড়াদৌড়ি না করে, প্রায় সারারাত আপিলের দরখাস্তের ড্রাফট না বানিয়ে, পরের দিন গেট খোলার আগে সচিবালয়ে না গিয়ে এবং প্রায় বিকেল পর্যন্ত একটানা সচিবালয়ে থেকে প্রত্যেক ডেস্কে গিয়ে সই আদায় না করিয়ে বেসিস-এর দপ্তরের কাউকে পাঠিয়ে দিতে পারতাম; এবং সেই সময়ে আমি আমাকে নির্বাচনী প্রচারণায় নিয়জিত রাখতে পারতাম। কিন্তু আমি তা’ করিনি। আমি মনে করেছি, ঐ সংকট থেকে উত্তরণের জন্য আমাকেই সম্মুখ সমরে যেতে হবে, এবং আমি তা’ই করেছি। আর সত্যি বলতে কি, কে কখন আবার স্যাবোটাজ করবে, এই ভয়টাও ছিল বৈকি!

আরেকটা অভিযোগ আনা হয়েছে যে, আমি কোন বোর্ড মেম্বারকে সাথে না নিয়ে এসব করেছি! আমি ২৭শে মার্চের মেম্বারদের মিটিং-এ খোলা আহবান জানিয়েছিলাম যে, যে-কেউ আমার সাথে যেতে পারেন। নির্বাচন কমিশনার এস এম কামাল ভাই, প্রাক্তণ সভাপতি মাহবুব জামান ভাই ও আমি রাত ৯টা পর্যন্ত বেসিস অফিসে সেদিন অপেক্ষা করেছিলাম। কেউ আসেননি। প্রার্থীরা নির্বাচন প্রচারণায় কেউ রাওয়া ক্লাবে গিয়েছিলেন, আর কেউ ফেসবুক লাইভ করছিলেন। আমার ‘অতি সোচ্চার’ বোর্ড মেম্বারকেও দেখিনি। শেষ পর্যন্ত আমরা তিনজনই গিয়েছিলাম। পরদিন সকালবেলাও কেউ আমার সাথে যোগাযোগ করেননি। ডিটিও বলেছিলেন যে তাঁর ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্কে মিটিং আছে, তাই তাড়াতাড়ি যেতে হবে। সচিবালয়ের প্রবেশ পাশ বের করার জন্য আমি সকাল সকাল চলে গিয়েছিলাম। ভাগ্য ভাল যে প্রাক্তণ মহাসচিব শোয়েব মাসুদের ধর্ম মন্ত্রণালয়ে সে সময়েই মিটিং ছিল এবং তাঁর কাছে পাশ ছিল; তিনি আগে ঢুকে গিয়ে আমার জন্য পাশ বানিয়ে নিয়ে আসায় আমি সময় মত প্রবেশ করতে পেরেছিলাম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here