আলোচ্য বিষয় সমূহ

ডায়াবেটিস কি

ডায়াবেটিস কি অনেকেরই প্রশ্ন। ‘ডায়াবেটিস‘ একটি হরমোন সংশ্লিষ্ট রোগ। দেহের অগ্ন্যাশয় যদি যথেষ্ট ইনসুলিন তৈরি করতে না পারে অথবা শরীর যদি উৎপন্ন ইনসুলিন ব্যবহারে ব্যর্থ হয়, তাহলে যে রোগ হয় তা হলো ‘ডায়াবেটিস’। মানুষ যে সব খাদ্য গ্রহন করে তার সরকরা জাতীয় অংশ পরিপাকের পরে সিংহ ভাগ গ্লুকোজ হিসেবে আমাদের রক্তে প্রবেশ করে। আর দেহ কোষ প্রয়োজনীয় সক্তি উৎপাদনএর জন্য গ্লুকোজ গ্রহন করে। আধিকাংশ দেহকোষই এই গ্লুকোজ গ্রহনের জন্য ইন্সুলিন নামক এক প্রকার হরমোনের উপর নির্ভরশীল। ‘ডায়াবেটিস’ হল ইন্সুলিনের সমস্যা জনিত রোগ। ইন্সুলিন কপম বা অকার্যকর হয়ার জন্য কোষে গ্লুকোজের ঘাটতি এবং রক্তে গ্লুকোজের বাড়তি হয়। কারো রক্তে গ্লুকোজের সুনির্দিস্ট মাত্রা অতিক্রম করলেই তাকে ‘ডায়াবেটিস’ রোগী হিসেবে চিনহিত করা হয়।

এর মাত্রা গুলি হলঃ

  • খালি পেটে রক্তের প্লাজমায় প্রতিলিটার ৭.০ মিলিমোল বা তার বেশী
  • খালি পেটে ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ খাওয়ার ২ ঘণ্টা পর প্রতিলিটার ১১.১ মিলিমোল বা তার বেশী
    রক্তে গ্লুকোজ কেন বাড়ে?

অগ্ন্যাশয় নামক একটি গ্রন্থি থেকে ইন্সুলিন নামক একটি হরমোন নিঃসৃত হয়। এই ইন্সুলিন কোন কারনে কম বা অকার্যকর হলে রক্তে গ্লুকজের পরিমাণ বেরে যায় এবং অতিরিক্ত গ্লুকোজ পস্রাবের সাথে বেরিয়ে যায়।
একজন স্বাভাবিক মানুষের সাথে ডায়বেটিক রোগীর তুলনা ছকের মাধ্যমে দেখা যেতে পারে-

[supsystic-tables id=6 ]

 

সাধারণত ডায়াবেটিস রোগের জন্য বংশগত ও পরিবেশের অভাব দুটোই দ্বায়ী। কদাচিৎ কোন বিশেষ অসুখ থেকেও ডায়াবেটিস হতে পারে। শক্তির জন্য দেহে শর্করা, আমিষ ও চর্বি জাতীয় খাদ্যের প্রয়োজন। ডায়াবেটিস হলে শর্করা ও অন্যান্য খাবার সঠিকভাবে শরীরের কাজে আসেনা। ডায়াবেটিস হলে অগ্ন্যাশয় থেকে প্রয়োজন মত কার্যকরী ইনসুলিন নামের রস নিঃসরন হয় না বা এর কার্যকারিতা হ্রাস পায় বলে দেহে শর্করা, আমিষ চর্বি জাতীয় খাদ্যের বিপাকও সঠিক হয় না।

ডায়াবেটিস রোগের লক্ষণ

সুনির্দিস্ট লক্ষণ

ক) ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া
খ) খুব বেশি পিপাসা লাগা
গ) বেশি ক্ষুদা পাওয়া
ঘ) যথেষ্ট খাওয়া সত্ত্বেও ওজন কমে যাওয়া
ঙ) ক্লান্তি ও দূর্বলতা বোধ করা

সুনির্দিস্টস্ট লক্ষণ নয়

ক) ক্ষত শুকাতে বিলম্ব হওয়া
খ) চোখে কম দেখা
গ) খোস পাঁচড়া, ফোঁড়া পভৃতি চর্মরোগ দেখা দেওয়া
ঘ) বারে বারে প্রসব সমস্যা বা বাচ্চা নষ্ট হয়ে যাওয়া

“অনেক ক্ষেত্রে অন্যান্য কারণে পরীক্ষায় ডায়াবেটিস ধরা পরে। শতকরা ৫০% বয়স্ক রোগীদের এসব লক্ষণ প্রকাশ পায়না তবে সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় ডায়াবেটিস ধরা পরে”।

কাদের ডায়াবেটিস হতে পারে

যে কেউ যে কোন বয়সে যে কোন সময় ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে নিম্ন উল্লেখিত শ্রেণীর লোকের ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভবনা বেশি।
ক) যাদের বংশে, যেমন বাবা-মা, বা রক্ত সম্পর্কিত নিকট আত্মীয়ের ডায়াবেটিস আছে
খ) যাদের ওজন অনেক বেশি বা পেট ভুরি বেশী
গ) যারা ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রমের কোন কাজ করেনা
ঘ) বহুদিন স্টেরয়েড জাতীয় ঔষধ ব্যবহার করলে
ঙ) বহুমূত্র পূর্ব শর্করা আধিক্য

যেসব অবস্থায় ডায়াবেটিস প্রকাশ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে

ক) শারীরিক স্থুলতা খ) গর্ভাবস্তা গ) ক্ষত ঘ) আঘাত ঙ) অস্ত্রপচার চ) মানসিক বিপর্যয় ছ) রক্তনালীর অসুস্থতার কারণে হঠাৎ করে মস্তিষ্কের রোগ জ) বহুদিন ধরে স্টেরয়েড জাতীয় ঔষধ ব্যবহার করলে।

ডায়াবেটিস কি সারানো যায়

ডায়াবেটিস রোগ সারে না। এ রোগ সারা জীবনের রোগ। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এ রোগকে ভালভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকলে প্রায় স্বাভাবিক কর্মঠ জীবন যাপন করা সম্ভব।

ডায়াবেটিস ও অন্যান্য শর্করা বিপাকের বিভিন্ন ধাপ। ধাপগুলো হল-

  • স্বভাবিক অবস্থা
  • অভুক্ত অবস্থায় শর্করা আধিক্য ( ইম্পেয়ার্ড ফাস্টিং গ্লুকোজ-আইএফজি)
  • শর্করা অসহিষ্ণুতা (ইম্পেয়ার্ড গ্লুকোজ টলারেন্স–আইজিজি)
  • ডায়াবেটিস

ডায়াবেটিস ও অন্যান্য শর্করা বিপাকের বিভিন্ন ধাপের মাত্রা

[supsystic-tables id=7 ]

ডায়াবেটিসের প্রকারভেদ

ইতিপূর্বে আমাদে কাছে ডায়াবেটিসের কারণগুলো স্পষ্ট ছিলনা। বভিন্ন দেশের বিজ্ঞানী গন বহুদিন যাবত বিভিন্ন গবেসনা ও পরিক্ষা-নিরিক্ষার মাধ্যমে ডায়াবেটিসের কারণ খোজার চেস্টা করে আসছেন। পূর্বে লক্ষণকে চিন্তা করে যে প্রকারভেদ প্রচলিত ছিল তা অতি সম্প্রতি পরিবর্তন করে রোগের কারণসমুহের উপর বিশেষ জোর দিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নতুন প্রকারভেদ অনুমোদন করেছেন।
ডায়াবেটিসকে মূলত চার শ্রেণীতে বা ধরনের বিন্যাস করা হয়েছে-

  • ধরণ ১
  • ধরণ ২
  • বিবিধ কারণভিত্তিক শ্রেণী
  • গর্ভকালিন ডায়াবেটিস

ক) ধরণ ১। পূর্বে এই শ্রেণিকে ইনসুলিন নির্ভরশীল রোগ বলা হত। এই ধরনের রোগীদের শরীরে ইনসুলিন একদমি তৈরি হয় না। সাধারণত ৩০ বছরের কম বয়সে (গড়ে ১০-১২ বতসরে) এ ধরনের ডায়াবেটিস দেখা যায়। বেঁচে থাকার জন্য এসকল রোগীকে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতেই হয়। অন্যথায় রক্তের শর্করা অতি দ্রুত বেরে গিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই রক্তে অম্লজাতীয় বিষক্রিয়ায় অজ্ঞান হয়ে মৃত্যমুখে পতিত হয়। অজ্ঞান হওয়া অবস্থায় পস্রাবে এসিটোন পাওয়া যায়। এধরনের রোগিরা সাধারণত কৃশকায় হয়ে থাকেন। সৌভাগ্যবশত আমাদের দেশে ইনসুলিন নির্ভরশীল ধরন ১ রোগীর সংখ্যা খুবই কম। এদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পারিবারিক ইতিহাস থাকেনা।

খ) ধরণ ২। এই শ্রেণীর রোগীর বয়স অধিকাংশ ক্ষেত্রে ৩০ বৎসরের উপরে হয়ে থাকে। তবে আজকাল ৩০ বৎসরের নিচেও এই ধরণের রগীর দেখা যাচ্ছে এবং দিনে দিনে বেরে চলেছে। এদের শরীরে ইনসুলিন তৈরি হয় তবে প্রয়োজনের তুলনায় যথেস্ট নয়। অথবা শরীরে ইনসুলিনের কার্যখমতা কম। অনেক সময় এই দুই ধরণের কারণ একই দেখা দিতে পারে। ইনসুলিন কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার সাথে সাথে এই ধরণের রগীরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে স্থুলকায় হয়ে থাকেন। এই ধরণের রোগীদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পারিবারিক ইতিহাস পাওয়া যায়। ইনসুলিন ইনজেকশন না দিলে প্রথম শ্রেণীর রোগীদের মত এদের কিটোসিস হবে না। অর্থাৎ এরা ইনসুলিন নির্ভর নয়। অনেক ক্ষেত্রে কোন শারীরিক অসুবিধা অনুভব করেনা বলে এরা চিকিৎসকের কাছে যান না। ফলে বিনা চিকিৎসায় অনেকদিন কাটানোর কারণে বিভিন্ন প্রকার জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে যান। এই পদ্ধতিতে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ না হলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ খেতে হয়। কোন কোন বিশেষ ক্ষেত্রে সাময়িক ইনসুলিন প্রয়োজন হতে পারে।

গ) বিবিধ কারণভিত্তিক শ্রেণী

• জেনেটিক কারণে ইনসুলিন কম তৈরি হওয়া
• জেনেটিক কারণে ইনসুলিন কার্যকারিতা কমে যাওয়া।
• অগ্ন্যাশয়ের বিভিন্ন রোগ
• অন্যন্য হরমোন আধিক্য
• ঔষধ রাসায়নিক দ্রব্যের কারণে
• কোনো কোনো সংক্রমন ব্যাধি
• অন্যান্য কোন প্রতিরোধ ক্ষমতার জটিলতা

বাংলাদেশসহ অন্যান্য অনুন্নত দেশে বিশেষ করে উষ্ণমণ্ডলীর দেশগুলোতে অপুস্টির সাথে একপ্রকার ডায়াবেটিস দেখা যায়। পূর্বে অপুস্টির শিকার ডায়াবেটিক রোগীদেরকে অপুস্টি-ডায়াবেটিস বা Malnutrition Related Diabetes (MRDM) শ্রেণীভুক্ত করা হত। কিন্তু বর্তমানে এর প্রচলন নেই। তবে এদের অর্ন্তভুক্ত FCPD বা অগ্ন্যাশয়ে পাথর পাওয়া অপুস্টিজনিত ডায়াবেটিসকে অন্যান্য কারণ হিসাবে বিশেষ শ্রেণীভুক্ত রাখা হয়েছে।

ঘ) গর্ভকালিন ডায়াবেটিসঃ অনেক সময় গর্ভকালীন অবস্থায় প্রসূতিদের ডায়াবেটিস ধরা পরে। আবার প্রসবের পরে ডায়াবেটিস থাকে না। এই প্রকার জটিলতাকে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস বলা হয়। গর্ভবতি মহিলাদের ডায়াবেটিস হলে- গর্ভবতি, ভ্রুন, প্রসুতি ও সদ্য-প্রসুত শিশু সকলের জন্যই বিপদজনক হতে পারে। বিপদ এড়ানোর জন্য গর্ভকালীন অবস্থায় ডায়াবেটিসের প্রয়োজনে ইনসুলিনের মাধ্যমে বিশেষভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা আবশ্যক। এদের প্রসব হাঁসপাতালে করানো বাঞ্ছনীয়। গর্ভকালীন সকল মহিলাকে বিশেষ করে যাদের ঝুকি আছে যেমন- বংশপ্রভাব, স্থূলকায়, বেশি বয়স্ক ইত্যাদি ধরণের মহিলাদের ডায়াবেটিস আছে কিনা পরীক্ষা করাতে হবে। এই ধরণের রগীদের পরবর্তি সময়ে ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভবনা বেশি থাকে।

ডায়াবটিক মহিলাদের জন্য জ্ঞাতব্য

ডায়াবটিক মহিলা যদি সন্তান ধারণ করতে চান, তবে গর্ভবতি হওয়ার পূর্বে অবশ্যই তাকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ৩-৫ মাস আগে থেকেই খাওয়ার বরি বাদ দিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ইনসুলিন নিতে হবে। HbA ic ৬.৫% এর কাছাকাছি হল চিকিৎসকের অনুমতি সাপেক্ষে গর্ভধারনে আসতে পারেন। গর্ভকালিন অবস্থায় তাকে ইনসুলিনের সাহায্যে তার রক্তের ইনির মাত্রা অভুক্ত অবস্থায় ৫.০ M.mol/L এবং খাবারের পরে ৭.০ মিলিমোল/লিটার এর নিচে রাখতে হবে। অন্যথায় শিশুর ক্ষেত্রে বিকলাঙ্গ থেকে শুরু কর বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা হতে পারে।

অভুক্ত অবস্থায় শর্করার আধিক্য (IFG)

শুধু অভুক্ত অবস্থায় শর্করার আধিক্য যাদের থাকে পরবির্তী সময়ে তাদের ডায়াবেটিস ও তার জটিলতা হতে দেখা যায়। তাই বিশেষঅঙ্গগন এই অবস্থাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেন। অভুক্ত অবস্থায় রক্তে শর্করার পরিমাণ ৬.১ মিলিমোল/লিটার বা এর অধিক এবং ৭.০ মিলিমোল/লিটার এর নিচে এই ধাপ বোঝায়। এই অবস্থা নিয়ন্ত্রণে না রখলে পরবর্তি বয়সে ডায়াবেটিস ও অন্যান্য ধমনী-শিরা ও হৃদযন্ত্রের বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে।

শর্করা অসহিংসুতা (IGT)

কোন কোন রোগীর রক্তে শর্করা (গ্লুকোজ) পরিমান সুস্থ মানুষের রক্তের শর্করার পরিমাণ থেকে বেশি, অথচ তা ডায়াবেটিস রোগীর রক্তে গ্লুকোজের তুলনায় কম হতে পারে। এই ধরণের রোগীকে শর্করা অসহিংসু রোগী বলা যেতে পারে। অভুক্ত অবস্থায় এদের রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ ১১.১ মিলিমোল এর কম অথচ ৭.৮ মিলিমোল এর বেশি থাকবে। শর্করা অসহিংসু রোগীদের ডায়াবেটিস রোগীর মতোই বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে। এক-তৃতীয়াংশ শর্করা অসহিংসু রোগী কিছুকাল পর ডায়াবেটিস রোগীতে পরিণত হয়, যদি সাবধানতা অবলম্বন না করে।

অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস থেকে বিপদ

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না রাখলে অনেক বিপদ হয়। এ রোগ ভাল্ভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখাই চিকিৎসার লক্ষ্য। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে না রাখলে যেসব মারাত্বক উপসর্গ অথবা জটিলতা দেখা দিতে পারে তা জেনে রাখা ভাল। পক্ষাঘাত, স্নায়ুতন্ত্রের জটিলতা, হৃদরোগ, পায়ে পচনশীল ক্ষত, চক্ষুরোগ এমনকি চোখের ভিতর রক্তক্ষরণের জন্য অন্ধত্ব, মুত্রাশয়ের ইনফেকশন, পস্রাবে আমিষ বের হওয়া, পরবর্তি কালে কিডনির কার্যক্ষমতা লোপ পাওয়া, পাতলা পায়খানা, যক্ষা, মাড়ির প্রদাহ, চুলকানি, ফোঁড়া, পাঁচড়া ইত্যাদি। তাছাড়া রোগের কারণে যৌন ক্ষমাতা কমে যাওয়া এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে বেশি ওজনের শিশু জন্ম দেয়া, মৃত শিশু জন্ম, অকালে সন্তান প্রসব, জন্মের পরই নবজাতকের মৃত্যু এবং নানা ধরণের জন্ম ত্রুটি দেখা দিতে পারে। রোগীদের ডায়াবটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা ছারাও শরীরর ওজন বাঞ্ছিত ওজনের কাছাকাছি রাখা উচিত। ডায়াবেটিস রোগীদের উচ্চ রক্তচাপের রোগ থকে যেসব জটিলতা দেখা দেয় এই দুটি রোগ একত্র হলে জটিলতা দেখা দেয় এই দুটি রোগ একত্র হল জটিলতা আরো বেরে যায়। ডায়াবেটিস এর সঙ্গে ধূমপান যুক্ত হলে রোগের জটিলতা অনেকগুন বেরে যায়।

ডায়াবটিস রোগ এর জরুরি অবস্থা

হাইপোগ্লাইসেমিয়া (রক্তে শর্করা স্বল্পতা)

রক্তে শর্করার পরিমাণ কমানোর জন্য টযাব্লেত বা ঈনসুলিন দেয়া হয়। প্রয়োজনের অতিরিক্ত ট্যাবলেট বা ইনসুলিন নেয়ার ফলে যদি শর্করার পরিমাণ খুব কএ যায় অর্থাৎ ২.৫ মিলি মোলর কম হয় তাহলে শরীরে প্রতিক্রিয়া হতে পারে। তবে অনেকের বেশি দ্রুত শর্করা নামিয়ে আনলে রক্তে বেশি শর্করা থাকলেও এই ধরণের লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

প্রতিক্রিয়ার লক্ষণগুলি নিম্নরূপ

ক) অসুস্থ বোধ করা
খ) খুব বেশি খিদে পাওয়া
গ) বুক ধরফর করা
ঘ) বেশি ঘাম হওয়া
ঙ) শরীর কাপতে থাকা
চ) শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা
ছ) অস্বাভাবিক আচরন করা
জ) অজ্ঞান হয়ে যাওয়া

কেন এবং কখন এইসব লক্ষণ দেখা যায়?

ক) ঔষধের (ট্যাবলেট বা ইনসুলিন) পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় বেশি হলে
খ) বরাদ্দের চেয়ে খাবার খুব কম হলে বা খতে ভুলে গেলে
গ) ইনসুলিন নেয়ার পর খুব দেরী করে খাবার খেলে
ঘ) হঠাত বেসি ব্যায়াম বা দৈহিক পরিশ্রম করলে
ঙ) বমি বা পাতলা পায়খানার জন্য শর্করা অন্ত্রনালী হতে শোষন না হলে
হাইপোগ্লাইসেমিয়া হল কি করা উচিত

প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়া মাত্রই রোগী চা-চামচের ৪-৮ চামচ গ্লুকোজ বা চিনি এক গ্লাস পানিতে গুলে খেয়ে নিবেন কিংবা রোগীকে খাইয়ে দিতে হবে। রোগী অজ্ঞান হয়ে গেলে মুখে কিছু খাওয়ানোর চেস্টা না করে গ্লুকোজ ইনজেকশন দিত হবে বা তাকে যত তারাতারি সম্ভব হাঁসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

ডায়াবেটিক কোমা

ইনসুলিন নির্ভরশীল রোগীদেরই সাধারণত ডায়াবেটিক কোমা হয়ে থাকে। অপর্যাপ্ত ইনসুলিন নিলে বা ইনসুলিন নির্ভরশীল রোগী ইনসুলিন একেবার না নিলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেরে গিয়ে বিপর্যয় দেখা দেয়। ইনসুলিন এর অভাবে রক্তের শর্করা শরীরের কাজে লাগতে পারেনা, তখন তাপ ও শক্তির জন্য দেহের সঞ্চিত চর্বি ব্যবহার হতে থাকে। কিন্তু পর্যাপ্ত ইনসুলিন এর অভাবে এই চর্বি অতিরিক্ত ভাঙ্গার ফলে কিছু ক্ষতিকর পদার্থ (কিটোন বডিস) ও অম্ল রক্তে বেরে যায়, ফলে কিটোন বডির পরিমাণ বেশি মাত্রায় বেরে যায়। রোগী অজ্ঞান হয়ে যায়। এই অবস্থাকে ডায়াবেটিক কোমা বলে।

ডায়াবটিক কোমার লক্ষন

(ক) প্রস্রাবে শর্করার পরিমাণ খুব বেশি বেরে যাওয়া (খ) খুব বেশি পিপাসা লাগা (গ) ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া (ঘ) অত্যন্ত বেশি ক্ষুদা লাগা (ঙ) খুব অসুস্থ বোধ হওয়া (চ) বমি ভাব হওয়া (ছ) দূর্বলতা বোধ হওয়া (জ) ঝিমানো (ঝ) শ্বাস কস্ট হওয়া (ঞ) দ্রুত শ্বাস নেয়া (ট) মাথা ধরা (ঠ) চোখে ঝাপসা দেখা (ড) নিস্তেজ বোধ হওয়া (ঢ) শ্বাসে এসিটোনের গন্ধ বের হওয়া।

এই লক্ষণগুলি দেখা দিলে

শরীরে পানি স্বল্পতা কমার জন্য বেশী করে লবন মিশ্রিত পানি খেতে পারেন।
(ক) ইনসুলিন এর পরিমাণ বারাতে হবে
(খ) প্রস্রাবে কিটোন বডি আছে কিনা তা পরীক্ষা করতে হবে
(গ) অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে

রোগীর রক্তে গ্লুকোজ কখন বাড়ে?

  • বেশি খাবার খেলে
  • ব্যায়াম বা দৈহিক পরিশ্রম না হোলে
  • পরিমানের চেয়ে কম ইনসুলিন নিলে
  • ইনসুলিন না নিলে বা ট্যাবলেট খেতে ভুলে গেলে বা না খেলে
  • কোন সংক্রামক বা প্রদাহজনিত রোগ হলে বা মানসিক বিপর্যয় দখা দিলে
  • অন্য কোন রোগের চিকিৎসার সময় ডায়াবেটিসের চিকিৎসা বন্ধ রাখলে

ডায়াবেটিসের চিকিৎসা

ডায়াবেটিস সম্পূর্ণ সারানো বা নিরাময় করা যায় না। তবে এ রোগ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব এবং এই বিষয়ে চিকিৎসক রোগীকে সাহায্য করতে পারেন।

ডায়াবেটিস সম্পর্কিত আর কিছু তথ্য – অবশ্যই পড়ুন

তথ্যঃ বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি

আরও পড়ুনঃ ডেঙ্গু ভাইরাস বা জ্বর ও চিকুনগুনিয়া

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here