টবে গাঁদা ফুল চাষের পদ্ধতি

গাঁদা ফুলের ইংরেজি নাম “Merry Gold”. যার বৈজ্ঞানিক নাম “Tegetes Erecta”. এই ফুলটিকে গন্ধা ও গেন্ধা নামেও অনেকে ডাকে।

এই ফুলটি বিভিন্ন রংয়ের হয়ে থাকে, জাত ভেদে এর আকৃতি ও ভিন্ন ভিন্ন হয়। এর পাপড়ি গুলো খুব সুন্দর এবং বিন্যস্ত তাই এটি সবার নিকট খুবই  আকর্ষণীয় ফুল। হলুদ, কমলা, সাদা-বাদামী ইত্যাদি রংয়ের হয়ে থাকে এই গাঁদা ফুল।

গাঁদা ফুলের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি কন্দ জাতীয় ফুল। এর পাপড়ি গুলো খুব সুন্দর এবং বিন্যস্ত। একটি গাছে ১৮-২৫ টি পর্যন্ত ফুল ধরে যেগুলো প্রায় ৪-৫ দিন পর্যন্ত সতেজ থাকে। আজকে আলোচনা করব টবে গাঁদা ফুল চাষের পদ্ধতি নিয়ে।

গাঁদা ফুলের প্রকারভেদ

বাংলাদেশ এ মূলত দুই ধরনের গাঁদা ফুল দেখা যায় আফ্রিকান গাঁদা ও ফরাসি গাঁদা

আফ্রিকান গাঁদা ফুল হয় হলুদ রংয়ের। এই প্রকারের গাছের আকারও হয় বড়। জাতসমূহ- ইনকা, গিনি গোল্ড, গোল্ডস্মিথ ইত্যাদি। 

ফরাসি গাঁদা ফুল হয় কমলা ও হলুদ রংয়ের। রক্তগাঁদা নামেও এদের পরিচিতি রয়েছে। এই প্রকারের গাছ আকারে ছোট হয়।  এদের পাপড়ি গুলোর গোড়ায় কালো ছাপ থাকে। জাতসমূহ- মেরিয়েটা, লিজন অব অনার, হারমনি ইত্যাদি। 

এগুলো ছাড়াও বাংলাদেশে বেশ কিছু প্রকারের গাঁদার চাষ অল্প পরিসরে হয়ে থাকে। তন্মধ্যে – জাম্বো গাঁদা, সাদা গাঁদা, হাইব্রিড গাঁদা ও চাইনিজ গাঁদা অন্যতম।

গাঁদা ফুলের ব্যবহার ও গুরুত্ব

গৃহসজ্জায় সবচেয়ে বেশী ব্যবহৃত হয় এই গাঁদা ফুল। বিভিন্ন উৎসব, পূজা-পার্বণ, বিয়ে-সাদি, ইত্যাদি অনুষ্ঠানে এই ফুল অনেক বেশী ব্যবহার করা হয়। ক্ষতের চিকিৎসায় ও এর গুরুত্ব রয়েছে।

চিকিৎসায় গাঁদা ফুলের ব্যবহার

কাটা স্থানে গাঁদা ফুল গাছ থেকে রস বের করে লাগিয়ে দিলে রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে যায়৷  ক্ষতের চিকিৎসায় গ্রামাঞ্চলে খুব বেশী ব্যবহৃত হয়। পোকামাকড় কামড়ের চিকিৎসায় এটি ব্যবহার করা হয়।

গাঁদা ফুল কোথায় কখন ফুটে

এই ফুল টি সব জায়গায় ই জন্মে। বর্তমানে বাংলাদেশে এই গাছটি বানিজ্যিক উদ্দেশ্যে চাষ করা হয়। ঢাকার সাভারে, চট্টগ্রামের হাটহাজারী,  পটিয়া, গাজীপুর,  চুয়াডাঙ্গা,  যশোর, ঝিনাইদহ এসব অঞ্চলে বেশী জন্মে। এটি মূলত শীতকালীন ফুল কিন্তু গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে ও এটি চাষ করা যায়।

টবে গাঁদা ফুল চাষের পদ্ধতি

টব নির্বাচন

গাঁদা ফুল চাষের জন্য মাঝারি বা বড় ধরনের টব হলে ভালো হয়। নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহ করে অথবা বীজ থেকে অথবা শাখা কলম করে এই ফুলের চাষ করা যায়।

মাটি নির্বাচন

গাঁদা ফুল চাষের জন্য এঁটেল দোঁ আশ মাটি সবচেয়ে বেশী উত্তম। মাটি ঝুরঝুরে ও ছোট ছোট টুকরো হতে হবে। মাটিতে গোবর সার মেশাতে হবে। মাটিতে যেন পানি জমে না থাকে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। টবের নীচে ছিদ্র করে অতিরিক্ত পানি বের হওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। আফ্রিকান গাঁদার জন্য মাটিতে গোবর বেশী দিতে হবে পক্ষান্তরে ফরাসি গাঁদার জন্য কম দিতে হবে। মাটি আদ্র হতে হবে অর্থাৎ মাটি যেন কাদা কাদা না হয় তা খেয়াল রাখতে হবে। নিয়মিত পানি দিতে হবে। রোদ পায় এমন স্থানে রাখতে হবে।

সার প্রয়োগ

গোবর সার, রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়া প্রয়োজন মতো ইউরিয়া, টিএসপি, জিপসাম, এমওপি দিতে হবে। বর্ষাকালে পাতার সার দিলে ভালো হবে।

পোকামাকড় দমন

এই ফুলে খুব কম পোকার আক্রমণ হয়। তবে মাঝে মাঝে ছত্রাক আক্রমণ করতে পারে৷ এতে গাছের গোড়া পঁচে যেতে পারে।  এছাড়া ছত্রাকেও আক্রমণ করতে পারে। তখন ছত্রাকনাশক স্প্রে  করে দিতে হবে।

পরিচর্যা

গাছকে সোজা করে রাখার জন্য অবলম্বন দিতে হবে। এজন্য বাশের কঞ্চির সাথে আলতো করে গাছকে বেধে রাখতে হবে। গাছ তাড়াতাড়ি বৃদ্ধির জন্য কীটনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে। গাছ বড় হলে গাছের ডগা ছেটে দিতে হবে। প্রয়োজন হলে গাছের গোড়ায় মাটি দিতে হবে।

ফুল উৎপাদন

জুলাই এর মাঝামাঝি চারা রোপণ করলে বর্ষাকালে ফুল দেয়। অক্টোবর এর মাঝামাঝি চারা রোপণ করলে শীতকালে ফুল দেয়। ফেব্রুয়ারী এর মাঝামাঝি চারা রোপণ করলে গ্রীষ্মকালে ফুল দেয়।

আরো পরুনঃ
টবে বেলি ফুল চাষ এর পদ্ধতি
টবে জুঁই ফুল চাষ এর পদ্ধতি
টবে কাঠগোলাপ চাষ
টবে হাসনাহেনা ফুলের চাষ
টবে শিউলি ফুল চাষ
টবে কৃষ্ণচূড়া ফুল চাষ
টবে কামিনী ফুল এর চাষ
টবে জবা ফুলের চাষ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *